Showing posts with label প্রতিবেদন. Show all posts
Showing posts with label প্রতিবেদন. Show all posts

৮ কোটি টাকা ইনকাম করেন ৮ বছরের এক বাচ্চা ! কিভাবে করে এতো আয় আসুন দেখি


পোস্টটি ফেসবুক আপডেট পেলাম এই মাত্র সত্যি হেডলাইন পড়ে প্রথমে ভাবলাম এটা কি করে সম্ভাব আমি তো ৮ বছর বয়সে নিজের হাতেই খেতে পারতাম না ইনকাম তো দূরের কথা কিন্তু আমি নিজ হাতে খেতে না পারলেও এই খুদে বালক মাত্র ৮ বছর বয়সে ১ বছরে ১ কিংবা ২ কিংবা ৩ কোটি না একদম ৮ কোটি টাকা করে ইনকাম করে এর বাচ্চাটির নাম ইভান । এখুন আপনাদের মনে প্রশ্ন যাগছে কিভাবে এই এই ছোট্ট বাকল ইভান ইনকাম করছে মাত্র ৮ বছর বয়সে যেটা আমারা ২৮ বছর কিংবা ৩৮ বছর বয়সেও পারছি না । হা! হা! হা! দাঁড়ান আরও চমক আছে ইভান এই ইনকাম করে সম্পূর্ণ অনলাইনে এবং জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব থেকে ।


ভিডিও দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন তাহলেই ভিডিও দেখতে পাবেন ইভানের ! :) 

ইভানের Youtube এ একটা নিজের চ্যানেল আছে যেটা ইভান ও তার বাবা সখের বসে শুরু করে এই চ্যানেল টির নাম 'ইনভ টিউব এইচডি' এই চ্যানেল ইভান বিভিন্ন ভিডিও গেমের রিভিও করে সে যে নিজেই এই রিভিও করে তা  কিন্তু না তাকে সাহায্য করে তার মা এবং বোন ও এবং ইভান এই Youtube এ খেলার রিভিও এর দ্বারা বছরে ১৩ লক্ষ ডলার ইনকাম করে যেটা বাংলাদেশের টাকাতে প্রাই ৮ কোটি টাকা এখুন বুঝতেই পারছেন এই ইনকাম ইউটিউব থেকে কিভাবে আসে ! অবশ্যই সম্পূর্ণ অ্যাড থেকে এই ইনকাম আসে । ইভান এর বাবা জেরড জানিয়েছেন এই সব অ্যাড এর দেখা শোনার জন্য একটি টিম রয়েছে । 



কি এখুন ভাবছেন শুরু করে দিবেন আপনিও দিতে পারেন আপনার মধ্যে এই রকম কোন দক্ষ থাকলে সে না হয় করবেন তার আগে কিভাবে এই রিভিও করে নিচের ভিডিও দেখে নিন !





CSS শিখার জন্য বাংলা ইবুক ।


বন্ধুরা সবাই ভাল আছেন তো আসাকরছি খুব ভাল আছেন আমিও আপনাদের দোয়াতে খুব খুব ভাল আছি আজকে আমি আপনাদের খুব কাজের একটি ইবুক শেয়ার করবো   ।
সরাসরি দেখুন বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৫ ।
সকলকে সালাম আর আল্লাহ পাকের নিকট সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা করে শুরু করছি আমার আজকের পোস্টটি পোস্টটি মূলত যাদের ব্লগ/ওয়েব সাইট আছে তাদের জন্য ।


অবশেষে ইন্ডিয়ানরা স্বীকার করে নিচ্ছে বাংলাদেশ হারেনি


সোহেল রানা
বগুড়া সিটি ২৪
_______________________
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নানা সময় কটাক্ষ করে আলোচিত সমালোচিত হয়েছিলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ক্রিকেট কমেন্টেটর নভজ্যোৎ সিং সিধু। এমনকি ভারত-বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতীয় একটি টেলিভিশনে আলাপ চলাকালে বাংলাদেশকে কাঙাল বলতেও মুখে বাধেনি তার। সেই সিধুও এবার ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের আম্পায়ারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন।

বাংলাদেশ ভারত ম্যাচে রুবেল হোসেনের করা ৪০ তম ওভারের চতুর্থ বলে আউট হয়েছিলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু অন্যায়ভাবে নো বল ডাকেন অাম্পায়ার। এমন অবিশ্বাস্য জীবন পাওয়ার পর সেঞ্চুরি করেন রোহিত। ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি নিউজের এক টক শোতে সিধু আম্পায়ারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এটা কোনোভাবেই নো বল ছিলো না। সিধু বলেন, ওই বলে রোহিত শর্মা আউট হলে ভারত ২৬০ রানের বেশি করতে পারতো না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরো বেশি চান্স থাকতো। অনুষ্ঠানের আরেক আলোচক জনপ্রিয় উপস্থাপক গৌরব কাপুরও আম্পায়ারের সমালোচনা করেন। তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে সাহায্য চাওয়ার সুয়োগ থাকা সত্বেও কেন তা করা হলো না তা নিয়েও বিষ্ময় প্রকাশ করেন তারা।

ভিডিও দেখুন



CYBER-71 ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক করে চালিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট দুর্নীতির প্রতিবাদ

বাঘের থাবায় (cyber-71 সাইবার ৭১ )ম্যাচের আগেই হ্যাক হয়েছিলো আইপিএলে পেপসির প্রধান পৃষ্ঠ পোষক কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব সহ ভারতীয় অধিনায়ক ধোনী / ইশান্ত শর্মা সহ বেয়াদপ গুলার ওয়েবসাইট। এরপরে দ্বিতীয় দফায় আক্রমনে ব্যাংক / পুলিশ / বিশ্ববিদ্যালয় সহ গত কাল আর আজ মিলিয়ে হ্যাক হয়েছে ২৩০০+ ভারতীয় প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট। সেই লিস্টে যুক্ত হলো ভারতীয় সরকারী ওয়েবসাইট সহ প্রয়োজনীয় আরো কিছু ওয়েবসাইট।

# ভারতীয় ফিরোজ গান্ধী বিশ্ব বিদ্যালয় হ্যাক…
# ভারতীয় আমদানি রপ্তানী বিষয়ক সরকারী ওয়েবসাইট হ্যাক…
# ভারতীয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারী ওয়েবসাইট হ্যাক…
উল্লেখ্য, ভারতীয় পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের সরকারী ওয়েবসাইট ও ইতিমধ্যেই হ্যাক করেছে “সাইবার ৭১”
গতকাল ইন্ডিয়ান ব্যাংক / পুলিশ / বিশ্ববিদ্যালয় সহ গতকালই হ্যাক হয়েছিলো প্রয়োজনীয় দুই হাজারের অধিক ভারতীয় ওয়েবসাইট…
. ‪

আসুন দেখে নেই বাংলাদেশ VS ভারত কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে কে কি বলছে

সাধুবাদ ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি)। সত্যিই তোমরা
(আম্পায়াররা) বিক্রি হয়ে গেলে!
-রমিজ রাজা


পাকিস্তানের আলিম দার ভারতকে মওকা দিলেন।
-শোয়েব আখতার

অবিশ্বাস্য! এক ম্যাচে এরকম দুটি সিদ্ধান্ত একটা দলকে ছিটকে
দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
-নাসের হুসেইন

এটা কোনোভাবেই নো বল ছিল না। কোমরের নিচে ছিল বল। এটা
ভয়ংকর সিদ্ধান্ত। ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে দিল।
-শেন ওয়ার্ন

গৌল্ডের সিদ্ধান্তটা একদমই বাজে। বলটা নিশ্চিতভাবেই কোমরের
উপরে ছিল না। রোহিত সৌভাগ্যক্রমে আরেকটা জীবন পেল। এইটাই
হয়তো আরও ২০ রান বেশি তুলে দেবে ভারতকে।
-ভিভিএস লক্ষ্মণ


খেলার ওরকম পর্যায়ে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত একটি দলের
মানসিকতা ভেঙ্গে দেয়।
-সৌরভ গাঙ্গুলি

৩০২ রান অনেক ভালো স্কোর। তবুও বাংলাদেশকে হালকাভাবে
নেওয়ার কোনো কারণ নেই। আম্পায়ারদের দুটো সিদ্ধান্ত তাদের
বিপক্ষে গেছে।
-অর্জুন রামপাল


মওকা মওকা ভিডিও জবাব দিল হ্যাকার গ্রুপ ভারতের ১২শ ওয়েবসাইট হ্যাক!

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ বনাম ভারতের ম্যাচ নিয়ে দু’দেশের সমর্থকদের মধ্যে চলছে শীতল স্নায়ুযুদ্ধ। বাংলাদেশের কিছু তরুণ এ যুদ্ধে অংশ নিয়েছে একটু অন্যভাবে। তাদের দাবি ‘মওকা মওকা’ শিরোনামের ভিডিও’র প্রতিবাদে তারা এখন পর্যন্ত ১২শ’রও বেশি ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে।

ইতোমধ্যে রাইজ অব দ্য টাইগারস নামে একটি ফেসবুক পেইজও খুলেছেন তারা। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স, বাংলাদেশ সাইবার আর্মি, বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস, এক্সপায়ার সাইবার আর্মি, স্ক্রিপ্ট কিড্ডি, সাইবার সোর্ড, সাইবার কমান্ডোজ নামে বাংলাদেশের কিছু হ্যাকিং গ্রুপ সম্মিলিতভাবে #ওপিইন্ডিয়া স্লোগানে এই হ্যাকিং চালাচ্ছেন।
তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তানভিরুল ইসলাম দীপ্ত নামে একজন বলেন, ‘আমাদের দেশের ক্রিকেট নিয়ে কিছু বলার আগে তাদের অতীত ইতিহাস স্মরণ করা উচিৎ। এর আগেও একাধিকবার আমাদের দেশ এবং জাতি নিয়ে তাদের তারকারা বিভিন্ন কটূক্তি করেছেন। তাই আমরা দেখাতে চাই আমরা কী করতে পারি। আমরা তাদের সাইবার স্পেস বাচ্চাদের খেলনার মতো ধ্বংস করে দিতে পারি।’
শুরুটা অবশ্য করেছে ভারতের কিছু তরুণরাই। কিছুদিন আগে তারা পেপসির একটি বিজ্ঞাপনের আদলে বাংলাদেশকে নিয়ে কটাক্ষ করে ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশি তরুণরা এর জবাবটাও দিচ্ছেন টাইগারদের মতোই। এক মওকা মওকার প্রতিবাদে এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে একধিক ভিডিও।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে কটাক্ষ করে কলকাতার অভিনেতা প্রসেনজিৎ নেতিবাচক স্ট্যাটাস দেয়ার পরই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। এরপর তিনি বাংলাদেশিদের কাছে ক্ষমা চান।
পোস্ট করেছেনঃ TUNER MUNNA

ভাইবার থেকে যেভাবে রেকর্ড হয়েছে মান্না-খোকার কথোপকথন



মাহমুদুর রহমান মান্না এবং সাদেক হোসেন খোকার ভাইবারে কথোপকথন কিভাবে রেকর্ড হয়েছে, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনাকল্পনা। বিষয়টি জানতে কথা বলি একাধিক বিশেষজ্ঞ আর ‘ভাইবার’-এর সঙ্গে। পাওয়া যায় চমকপ্রদ কিছু তথ্য। নাগরিক ঐক্যের প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার মধ্যকার কথোপকথন, যা গোপনে রেকর্ড করে ফাঁস করা হয়েছে, গোটা বাংলাদেশে আলোড়ন তুলেছে। এই ফোনালাপের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। তবে বিষয়টির কারিগরি দিকও রয়েছে কিভাবে রেকর্ড হলো?


বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো ফোনালাপ ফাঁস হলো যা প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সংঘটিত হয়নি। সাধারণত মোবাইলে কথা বললে সেটা সহজে রেকর্ড করতে পারে গোয়েন্দারা কিংবা তৃতীয় কোনো পক্ষ। কিন্তু ভাইবার-এর মতো একটি অ্যাপ, যেটা ব্যবহার করে কথা বললে তৃতীয় কারো পক্ষে সেটি শোনা কিংবা রেকর্ড করা সম্ভব নয় বলেই এতদিন বিশ্বাস করা হতো, সেই ফোনালাপ তাহলে রেকর্ড করা হলো কিভাবে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মঙ্গলবার সরাসরি ভাইবার-এর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য চাই। ভাইবার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আলোচিত ফোনালাপের বিস্তারিত তথ্য জানতে চায়। তাদের কাছে সেসব তথ্য দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মেলে আনুষ্ঠানিক উত্তর। তাৎক্ষণিক ম্যাসেজ এবং ভিওআইপি অ্যাপটির কর্তৃপক্ষ আমাকে জানায়, ভাইবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এমন কোনো ত্রুটির কথা তাদের জানা নেই, যেটার সুযোগ নিয়ে ব্যবহারকারীর কথোপকথন এভাবে রেকর্ড করা সম্ভব হতে পারে।
ভাইবার অ্যাপের মাধ্যমে যে কথোপকথন বা ভয়েস ডাটা পরিবহন হয় তা ‘স্ক্রাম্বেল’ করা থাকে এবং টেক্সট চ্যাটগুলো থাকে ‘এনক্রিপ্ট’ অবস্থায়। ভাইবার লিখেছে, ‘‘তাদের পক্ষে এটা বিশ্বাস করা অত্যন্ত কঠিন যে তাদের অ্যাপ-এর কোনো দুর্বলতার কারণে তৃতীয় কোনো পক্ষ ভাইবার-এর কথোপকথন রেকর্ডে সক্ষম হচ্ছে।”
ভাইবার-এর বক্তব্যে একটা ছোট্ট ফাঁকা রয়েছে। তারা বলেনি যে তাদের ‘স্ক্রাম্বেল’ বা ‘এনক্রিপ্ট’ করা তথ্য কোনোভাবেই তৃতীয় কারো পক্ষে ‘ইন্টারসেপ্ট’ বা ‘ডিকোড’ করা সম্ভব নয়। ফলে এই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যায় না যে, খুবই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কোনো ‘সার্ভিলেন্স’ সিস্টেম ব্যবহার করে ভাইবারের কথোপকথনও রেকর্ড সম্ভব হতে পারে। নিরাপত্তার এই দিকটা নিয়ে একটু পরে আলোচনা করছি।
সম্ভাব্য তিন উপায়
একাধিক তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে মান্না এবং খোকার মধ্যকার কথোপকথন রেকর্ডের তিনটি সম্ভাব্য উপায়ের কথা জানা গেছে। যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁদের কেউ কেউ নিজেদের নাম প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাই পরিচয় যতটুকু প্রকাশ সম্ভব, ততটুকুই প্রকাশ করা হয়েছে। উপায়গুলো হচ্ছে:
১. অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম নির্ভর ফোনসেটে সহজেই বিভিন্ন ধরনের স্পাই অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে কেউ হয়ত মান্না বা খোকার মোবাইল ফোনসেটে সেটা সেটআপ করে দিয়েছেন। আর সেই অ্যাপ্লিকেশন সকল ধরনের কথোপকথন, সেটা ভাইবার কিংবা স্কাইপ কিংবা সাধারণ ফোনকল – যাই হোক না কেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড করেছে। এটা সবচেয়ে সহজ উপায় এবং কার্যত যে কেউ করতে পারেন। তবে একটু সতর্ক হলে সেটা ধরা সম্ভব।
২. দ্বিতীয় উপায়টি প্রথমটির মতো। তবে কিছুটা কঠিন। এক্ষেত্রেও স্পাই সফটওয়্যার ঢুকিয়ে দেয়া হয় কাঙ্খিত ব্যক্তির মুঠোফোনে। তবে দূর থেকে, ভিন্ন কোনো উপায়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘‘স্পাইং ইউটিলিটিগুলো সোশ্যাল টিকস ব্যবহার করে রিমটলি ইন্সটল করা সম্ভব। এবং যেহেতু এগুলো গোপনে ফোনের মধ্যে চলতে থাকে, তাই সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে বোঝা প্রায় অসম্ভব।”
তথ্য প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আলমাস জামানও ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন একথা। তিনি বলেন, ‘‘রিমোট স্পাইওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন কোনো ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেমে একবার ইন্সটল হলে সে ডিভাইসটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব এবং এক্ষেত্রে হ্যাকার ঘরে বসে সব তথ্য পেতে পারেন। বর্তমানে হ্যাকাররা এমন রিমোট স্পাইওয়্যার বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড গেম ও সাধারণ অ্যাপ্লিকেশনে লুকিয়ে রাখে।’
৩. তৃতীয় উপায়টি অত্যন্ত জটিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার বেশ কয়েক কোটি টাকা খরচ করে সর্বাধুনিক মোবাইল ফোন নজরদারি উপকরণ কিনেছে। একাধিক তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, মান্না ও খোকার কথোপকথন এ সব উপকরণ ব্যবহার করে রেকর্ড করা হয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা। ঢাকায় গোয়েন্দাদের সঙ্গে কাজ করেন এমন একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এই বিষয়ে জানিয়েছেন, ‘‘বাংলাদেশে সরকার সাম্প্রতিক যে সার্ভিলেন্স ক্যাপাসিটি উন্নয়ন করেছে তাতে টার্গেট ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সব ধরনের অ্যাকটিভিটি মনিটর করা সম্ভব। ফোন, টেক্সট, জিমেইল, ভাইবার, হোয়াটসআপ সবকিছুই মনিটর করা সম্ভব।”
আলমাস জামানও স্বীকার করেছেন, ‘‘সার্ভিলেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে এটা করা সম্ভব। রিমোট স্পাইওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন থেকে এ ধরনের সার্ভিলেন্স সিস্টেম কয়েকগুণ শক্তিশালী হয়ে থাকে এবং যে কোনো অপারেটিং সিস্টেম এর নিরাপত্তা ভেঙে ফেলতে পারে।” এই প্রক্রিয়ায় বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও মত দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশেষজ্ঞ।
মান্না ও খোকার মধ্যকার ভাইবার কথোপকথন কিভাবে রেকর্ড হয়ে থাকতে পারে তাঁর একটি সম্ভাব্য উপায় ভাইবার-ও জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, এই দু’জনের কারো একজনের বা উভয়ের মোবাইল ফোন ‘সার্ভিলেন্স ইক্যুইপমেন্ট’ ব্যবহার করে ‘ট্যাপ’ করা হয়ে থাকতে পারে। আর সেক্ষেত্রে শুধু ভাইবার নয়, ফোনগুলোতে যে অ্যাপই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা রেকর্ড করা সম্ভব।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে ভাইবার-এর বক্তব্যের সঙ্গে তাঁদের বক্তব্যের মিল পেয়েছি আমি। পৃথক পৃথকভাবে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তবে উপায় যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের গোয়েন্দারা এখন প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছেন, মান্না-খোকার ফোনালাপ ফাঁস তার পরিষ্কার প্রমাণ। আর এভাবে ভবিষ্যতে আরো অনেক ফোনালাপ ফাঁস হলে আমি অন্তত বিস্মিত হবো না।

ওয়েব জালিয়াতি এবং সাইবার অপরাধীদেরও ব্যক্তিগত তথ্য এবং অর্থ চুরি করার বিভিন্ন উপায় জানুন


জালিয়াত এবং চোরেদের মত, সাইবার অপরাধীদেরও ব্যক্তিগত তথ্য এবং অর্থ চুরি করার বিভিন্ন উপায় আছে৷ যেমন আমনি একজন জালিয়াতকে আপনার বাড়ির চাবি দেন না, সেইরকমই জুয়াচুরি এবং অনলাইন পরিচয় হরণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত করতে নিশ্চিত করুন৷ অপরাধীদের প্রয়োগ করা প্রচলিত কৌশলগুলি জানুন যা জুয়াচুরি এবং অনলাইন পরিচয় হরণ থেকে আপনাকে সুরক্ষিত করার জন্য সাহায্য করে৷ এখানে কিছু সহজ টিপ দেওয়া হল৷


যদি আপনি একটি সন্দেহজনক ইমেল, ঝটপট বার্তা অথবা আপনার ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য জানতে চায় এমন ওয়েবপৃষ্ঠা দেখেন তাহলে প্রত্যুত্তর দেবেন না৷

আপনার ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চায় এমন বার্তা এবং সাইটগুলি থেকে সর্বদা সর্তক থাকুন, অথবা বার্তাগুলি যা একটি অপরিচিত ওয়েব পৃষ্ঠা উল্লেখ করে নিম্নলিখিত বিবরণ জানতে চায়:
  • ব্যবহারকারীনামগুলি
  • পাসওয়ার্ড
  • সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর
  • PIN (ব্যক্তিগত সনাক্তকারী নাম্বার)
  • সম্পূর্ণ ক্রেডিট কার্ডের নম্বর
  • আপনার মায়ের বিবাহ-পূর্ব নাম
  • আপনার জন্মদিন
ঐ বার্তাগুলি থেকে লিঙ্ক করা থাকতে পারে এমন কোন ফর্ম অথবা সাইন-ইন স্ক্রীনগুলি পূরণ করবেন না৷ যদি সন্দেহজনক কেউ আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে একটি ফর্ম পূরণ করতে বলে তাহলে প্রলুব্ধ হয়ে ফর্ম পূরণ করতে শুরু করবেন না৷ এমনকি “জমা দিন” বোতামটিও ক্লিক না করেও, যদি আপনি তাদের ফর্মগুলিতে আপনার তথ্য দেওয়া শুরু করে দেন, তাহলে হতেও পারে আপনি এখনও পরিচয় হরণকারীদের কাছে আপনার তথ্য পাঠাচ্ছেন৷
যদি আপনি আপনার পরিচিত কারো কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন কিন্তু সেটি তাদের মত লাগছে না, হয়ত আপনার অর্থ এবং তথ্য পেতে চেষ্টা করছে এমন একজন সাইবার অপরাধী দ্বারা তাদের অ্যাকাউন্ট আপস করা হয়েছে – কিভাবে আপনি সাড়া দেবেন তা নিয়ে সর্তক থাকুন৷ তাদেরকে এক্ষুণি অর্থ পাঠাতে বলা, অন্য দেশে আটকে পড়েছে বলে দাবি করা অথবা তাদের ফোন হারিয়ে গেছে বলে কল করতে পারছে না, যা প্রচলিত কৌশলগুলির অন্তর্ভুক্ত৷ এছাড়াও বার্তাটি আপনাকে ছবি, প্রবন্ধ অথবা ভিডিও দেখতে একটি লিঙ্কে ক্লিক করতে বলতে পারে, যা আসলে একটি ওয়েবসাইট যা আপনার তথ্য চুরি করতে পারে – তাই ক্লিক করার আগে ভাবুন!

যদি একটি ইমেল অথবা চ্যাট যা আপনি বিশ্বাস করেন না, সেখান থেকে একটি লিঙ্কের মাধ্যমে একটি সাইটে পৌঁছেছেন তাহলে কখনই আপনার পাসওয়ার্ড লিখবেন না৷


এমনকি যদি আপনি আপনার ব্যাঙ্কের মত এটিকে একটি বিশ্বাসী সাইট বলে মনে করেন, তাহলেও একটি বুকমার্ক ব্যবহার করে অথবা ব্রাউজারেসাইটটির ঠিকানা লিখে সরাসরি যাওয়া ভাল৷

ইমেল মারফত আপনার পাসওয়ার্ড পাঠাবেন না, এবং অন্যান্যদের সাথে এটি ভাগ করবেন না

অনলাইনে আপনার পাসওয়ার্ডগুলি হল আপনার অ্যাকাউন্ট এবং পরিষেবাগুলির চাবি, এবং আপনার বাস্তব জীবনের মতো, আপনি কাকে আপনার চাবিগুলি দিচ্ছেন সে বিষয়ে আপনাকে সর্তক থাকা উচিত৷ বৈধ সাইট এবং পরিষেবাগুলি ইমেলের মাধ্যমে তাদেরকে আপনার পাসওয়ার্ডগুলি পাঠাতে বলে না, তাই যদি অনলাইনে কোন সাইট আপনাকে আপনার পাসওয়ার্ডগুলির জন্য অনুরোধ করে তাহলে সাড়া দেবেন না৷
কারণ আপনার পাসওয়ার্ডগুলি খুব গুরুত্বপূর্ণ, অন্যান্যদের সাথে এমনকি বন্ধু এবং পরিবারবর্গের সাথে সেগুলিকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার সাবধানে চিন্তা করা উচিত৷ যখন আপনি আপনার পাসওয়ার্ডগুলি ভাগ করেন তখন একটি বড় ঝুঁকি থাকে যে, যে কেউ আপনার তথ্য অ্যাক্সেস করে আপনার অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার অথবা আপনি অনুমোদন করেন না এমন উপায়গুলির দিয়ে অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করতে পারে, যা আপনি চান না৷ উদাহরণস্বরুপ, যদি আপনি কারো সাথে আপনার ইমেল পাসওয়ার্ড ভাগ করেন, তাহলে সেই ব্যক্তি আপনার ব্যক্তিগত ইমেল পড়তে পারে, আপনার ইমেল অ্যাকাউন্ট দিয়ে অন্যান্য অনলাইন পরিষেবা যা আপনি হয়ত ব্যবহার করেন, যেমন ব্যাঙ্কিং বা সামাজিক সাইটগুলি অ্যাক্সেস করতে পারে, অথবা ছদ্মবেশে আপনার হয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারে৷ অবশেষে, যখন আপনি কারোর সাথে আপনার পাসওয়ার্ড ভাগ করেন, তখন তাদের কাছে থেকে আপনাকে এটি সুরক্ষিত রাখার ভরসা পেতে হবে; তারা অন্যদের সাথে কোন উদ্দেশ্যে বা দুর্ঘটনাক্রমে ভাগ করে নিতে পারে৷

যখন অনলাইনে সাইন ইন করতে বলা হবে তখন গভীর মনোযোগ দিন

প্রথমে, URLটি দেখতে আসল লাগছে কিনা তা দেখতে আপনার ব্রাউজারের ঠিকানা দন্ড দেখুন৷
প্রথমে, URLটি দেখতে আসল লাগছে কিনা তা দেখতে আপনার ব্রাউজারের ঠিকানা দন্ড দেখুন৷ এছাড়াও ওয়েব ঠিকানাটি https:// দিয়ে শুরু হচ্ছে কিনা তা আপনার পরীক্ষা করা উচিত – যা সংকেত দেয় যে, ওয়েবসাইটে আপনার সংযোগ এনক্রিপ্ট করা এবং গোপনীয়তা ভেদ এবং অবৈধ প্রভার বিস্তারের বিরোধী৷ আপনার কানেকশন এনক্রিপ্ট করা এবং আপনি আরো সুরক্ষিতভাবে সংযুক্ত তা স্পষ্ট করতে, কিছু ব্রাউজারের ঠিকানা দন্ডে https:// এর পাশে একটি প্যাডলক আইকন অন্তর্ভুক্ত থাকে৷

সন্দেহজনক ইমেল এবং কেলেঙ্কারীগুলি প্রতিবেদন করুন

Gmail সমেত অধিকাংশ ইমেল প্রদানকারীরা, আপনাকে এটি করতে অনুমতি দেয়৷ Gmail এ একটি সন্দেহজনক বার্তা প্রতিবেদন করা, ব্যবহারকারী যাতে আপনাকে আরো ইমেল পাঠাতে না পারে তা অবরুদ্ধ করে এবং আমাদের অপব্যবহারী দল অনুরুপ আক্রমণগুলি বন্ধ করতে সাহায্য করে৷

শীর্ষ সাইবার অপরাধী গ্রেফতার


যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এফবিআইয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সাইবার অপরাধী পাকিস্তানে গ্রেফতার হয়েছে ইন্টারপোলের তালিকাতেও তাদের নাম ছিল। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার পাকিস্তানের করাচী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় জানা গেছে। তাদের নাম নূর আজিজ ও ফারহান আরশাদ। এরা উভয়ই পাকিস্তানের করাচীর বাসিন্দা। এদের বিরুদ্ধে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করার অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কোম্পানি ও ব্যক্তি থেকে তারা এই পরিমাণ অর্থ চুরি করেছেন। পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা মীর মাজহার জাব্বার এসব বলেন।

অভিজিৎ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারি


অন্যতম জনাকীর্ণ এলাকা পাশে একুশের বইমেলা। সময় রাত আট টা। হাজার হাজার মানুষ মেলা থেকে ফিরছে। তখনই লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রীকে উপর্যুপরি কোপায় দুই যুবক। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দুই মিনিটেই কাজ শেষ করে দুই দিকে পালিয়ে যায়। একজন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে এবং অন্যজন মিলন চত্বরের দিকে পালায়। 

ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। কারণ তাদের ওপর হামলার স্থানটির আশপাশে বেশ কয়েকটি মোড়ে অবস্থান করছিল পুলিশ। হামলাস্থলের মাত্র ২৫ গজ দূরেই পুলিশ ব্যারিকেড ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ পথে সাতজন পুলিশ ডিউটিতে ছিল ওই সময়। 

ঘটনাস্থল থেকে শাহবাগ থানার দূরত্ব ২৫০ গজ। পশ্চিমে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি আর পূর্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সবগুলো পথে পুলিশ চেকপোস্ট।

অভিজিৎ হত্যাকান্ডটি নিয়ে পুলিশের ভূমিকাসহ বেশ কিছু প্রশ্ন সকলের মনে উঁকি দিয়েছে। বিএনপি -জামায়াত যেখানে ঢাকা শহরের কোথাও একটি মিছিল পর্যন্ত বের করতে পারে না সেখানে টিএসসির মত
সুরক্ষিত জায়গায় এই ধরনের কাজ কোন বিরোধী শক্তির পক্ষে করা প্রায় অসম্ভব।

আরো মজার কথা হলো, আওয়ামী লীগের জন্যে যখনই এই ধরনের জঙ্গী প্রচারনা দরকার পড়ে , তখনই কিছু জঙ্গী গোষ্ঠী বেরিয়ে আসে। ফেইসবুকে বা টুইটারের একটি একাউন্ট থেকে এই হত্যার দায় স্বীকার করে জঙ্গীরা বিবৃতি দেয়! সেই বিবৃতিকে ফলাও করে এমন ভঙ্গিতে প্রচার করে মোজাম্মেল বাবুদের টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা যে এর চেয়ে খাটি কথা ও প্রমাণ আর হতে পারে না। 

অভিজিৎকে বাছাই করার পেছনে যে বিষয়গুলি কাজ করেছে সেগুলি হলো

১) তিনি হিন্দু, মুক্তমনা এই ব্লগার নাস্তিক হলেও তার হিন্দু নামটি বিজেপির হিন্দুত্বকে উস্কে দেওয়ার জন্যে খুবই কাজে দিবে। কারন বিজেপির সাম্প্রতিক মতিগতি নিয়ে সরকার খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। ভারতের নতুন স্বরাষ্ট্র সচিবের সফরের আগে আগে এই হত্যা কান্ডটি অন্য ধরনের ফলাফল এনে দিবে।

২) তিনি আমেরিকার নাগরিক। তার হত্যাকান্ডে জঙ্গীবাদের কার্ডটি জমবে ভালো। পশ্চিমা বিশ্বের একটি অপশক্তির করুণা পেতে এই হত্যাকান্ডটা সরকারকে সহায়তা করবে। জঙ্গীদের দমনে এই সরকারই পশ্চিমাদের দরকার বলে তীক্ষ্ণভাবে অনুভূত হবে।

৩) তিনি মুক্তমনা ব্লগার। এই ধরনের ব্লগার নিহত হলে তা সহজেই ইসলামপন্থীদের ঘাড়ে দোষটি দিয়ে দেয়া যায়। জনগণের চিন্তা এর বাইরে যাবে না। 

এই ভয়ংকর ভাবনার নিষ্ঠুর শিকার হয়ে পড়েছে এই অভিজিৎ। সকল মুক্তমনাদের আরেকটু মুক্তভাবেই এই ভাবনাটি ভাবা উচিত। এক সময় তাজউদ্দীন আহমদ মুজিববাহিনীকে প্রচন্ড ভয় পেতেন। তিনি বলেছেন, আমাকে মেরে এই বাহিনী রাজাকারদের নামে চালিয়ে দিবে। সেই মুজিববাহিনীর সন্তান আফ্রিকান মাগুর সদৃশ্য এই গুন্ডা বাহিনী দেশের সকল মানুষকে আতংকে ফেলে দিয়েছে। 

কয়েক জন অসুস্থ্য ও ক্রিমিনাল মানুষের জন্যে ষোল কোটি মানুষকে এই বিপদের দিকে টেনে নিবেন না। এমন একটি অবস্থায় আমরা কেউ নিরাপদ থাকবো না। আরো শৃঙ্খলিত হওয়ার আগেই যে যেখানে আছেন সেখান থেকেই আওয়াজ তুলুন, প্রতিবাদ করুন, এদের মুখোশ উন্মোচন করুন। যারা সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন তারাও ভেবে দেখুন, কী ভয়ংকর দানবকে টিকে থাকতে আপনারা সহায়তা করছেন। এই দানবের ক্যালকুলেশনে পড়ে গেলে অভিজিতের মতো আপনার অথবা আপনার কোন প্রিয়জনের জীবন যে কোন মুহুর্তে চলে যেতে পারে। 

রাসুল(সঃ) এর চরিত্র হনন করে যা লিখেছিলেন মালাউন অভিজিৎ রায়


মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা এবং ধর্মবিরোধী লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই ইসলাম এবং রাসুল(সঃ) এর  বিরোধিতা করে লেখালেখির অভিযোগ ছিলো। রাসুল(সঃ) এর চরিত্র হনন করে বেশ কিছু লেখা লিখেছিলেন অভিজিৎ রায়। যেগুলো এখনো তার ফেসবুক আইডিতে রয়েছে।  ধারণা করা হচ্ছে জঙ্গিরা এই কারনেই তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। ফারাবি শফিউর রহমান নামে আরেকজন ইসলামপন্থী ব্লগার বেশ আগে থেকেই তার এসব লেখা নিয়ে অনলাইনে অভিযোগ করে আসছিলেন এবং তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন। রাসুল(সঃ) কে নিয়ে অভিজিৎ রায়ের একটি লেখার ব্যাপারে ফারাবি তার ব্লগে যে অভিযোগটি করেন তা এইরকমঃ - 

মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় দীর্ঘদিন ধরে কোরআন হাদীস বিকৃতি করে অনলাইনে প্রচার করছে। যে সব বাক্য হাদীসে বলা নাই তাও অভিজিৎ রায় উনার স্ক্রীনশটে দেয়া হাদীস গুলিতে ব্র্যাকেট আকারে দিয়ে দেয়। আমি এখন আপনাদের সামনে অভিজিৎ রায়ের কিছু হাদীস বিকৃতির নমুনা দেখাব। উম্মুল মুমেনীনদের নিয়ে লেখা অভিজিৎ রায়ের লেখায় অভিজিৎ রায় বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৭ নং হাদীস বর্ননা করেছেন যেখানে নাকি বলা হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মুমেনীন সাফিয়ার রুপ লাবণ্য দেখে তাকে বিয়ে করতে পাগল হয়ে গেছিল। নাউযুবিল্লাহ। কিন্তু বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৭ নং হাদীসে সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা কে নিয়ে কোন কথাই বলা নেই।

বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৭ নং হাদীস টি আমি এখানে হবুহু তুলে ধরছি – “ আবূ মা’মার ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‘আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে একটা বিচিত্র রঙের পাতলা পর্দার একটা কাপড় ছিল। তিনি তা ঘরের একদিকে পর্দা হিসাবে ব্যাবহার করছিলেন। রাসূল ﷺ বললেনঃ আমার সম্মুখ থেকে এই পর্দা সরিয়ে নাও। কারণ সালাত (নামায) আদায় করার সময় এর ছবিগুলি আমার সামনে ভেসে ওঠে। ” আপনারা দেখেন এই হাদীসে আসছে ঘরের একটি পর্দার কথা কিন্তু অভিজিৎ রায় কি সুন্দর ভাবে ঘরের পর্দার জায়গায় উম্মুল মুমেনীন সাফিয়া কে টেনে নিয়ে আসছেন। হ্যা বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৪ নং হাদীসে সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহার কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু ৩৬৭ নং হাদিসে নয়। বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৭ নং হাদীসে সাফিয়াকে নিয়ে এই জাতীয় কোন কথাই নাই। তাই আমরা প্রথমেই বুঝলাম যে অভিজিৎ রায় হাদিসের ক্রমিক নাম্বার অনুসারে আমাদের কাছে হাদীস বর্ননা করে নি। তাই এই অভিজিৎ রায় যে একটা ভণ্ড এর প্রথম প্রমান আমরা পেলাম। উম্মুল মুমেনীনদের নিয়ে লেখা অভিজিৎ রায়ের ১ম নোটে এই কুলাঙ্গার অভিজিৎ রায় বুখারী শরীফের একটি হাদীসে নিজে থেকে কয়েক লাইন লাগিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে চরম মিথ্যাচার করেছে।

অভিজিৎ রায়ের ১ম নোটে সে লিখেছে- “৬২৮ সালের মে মাসে খাইবার দখলের পর যেদিন মোহাম্মদের দল সাফিয়ার পিতা, স্বামী, ভাই এদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে, ঠিক সেদিনই মোহাম্মদ সাফিয়াকে নিয়ে নিজের তাবুতে রাত কাটান। প্রথমে অবশ্য দিহাইয়া নামের এক জিহাদী সৈনিক সাফিয়াকে পছন্দ করেছিলেন উপভোগের জন্য। পরে আরেকজন সাহাবির মুখে নবীজী যখন সাফিয়ার রূপলাবণ্যের কথা শুনলেন, আল্লাহর রাসুল তাকে সামনে নিয়ে আসার জন্যে আদেশ দিলেন। নবীজী ভালভাবে তাকিয়ে দেখলেন এই অপূর্ব সুন্দর দেহবল্লরী তো তারই উপযুক্ত। নবী সেই সাহাবীকে বললেন, ‘একে আমার জন্যে রেখে তুমি অন্য কাউকে নিয়ে যাও’, এরপরই মহানবী সাফিয়াকে নিজের ‘স্ত্রী হিসেবে’ নির্বাচিত করে তার শয্যাসঙ্গি হন। বুখারী শরীফের ১:৮ :৩৬৭”

1898954_1465513910334804_509180246_n


আমি আগেই আপনাদের কে বলছি যে বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৪ নং হাদীসে সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহার কথা বলা হয়েছে, ৩৬৭ নং হাদিসে নয়। এখন দেখি তো বুখারী শরীফের ৩৬৪ নং হাদিসে কি বলা হয়েছে- “‘‘দিহাইয়া এসে বললেন- হে নবী , আমাকে বন্দিনী নারীদের মধ্য হতে একজন দাসীকে দিন। নবী বললেন- যাও তোমার যেটা পছন্দ সেটা নিয়ে নাও। উনি তখন সাফিয়া বিনতে হুইকে নিলেন। এক লোক এসে বললেন- হে নবী আপনি দাহিয়াকে সেই নারী দিয়েছেন যে নাকি খায়বারের সর্দারের স্ত্রী এবং সে কেবল আপনারই উপযুক্ত। নবী তখন তাকে সাফিয়াকে তাঁর কাছে আনার জন্য হুকুম করলেন। সাফিয়াকে তার সামনে আনা হলে, তিনি দেখে দিহাইয়াকে অন্য নারী নিতে বললেন ও সাফিয়াকে নিজের কাছে রেখে দিলেন এবং বিয়ে করলেন’ (বুখারী, বই ১, ভলিয়ুম-৮, হাদিস-৩৬৭)।’



এবার খেয়াল করুন- বুখারী শরীফের এই হাদিসে সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা কে বিবাহের কারন কি বর্ণিত আছে? এই হাদিসে এটা স্পষ্ট যে, গোত্রের সবচাইতে সম্মানিত ও সম্ভ্রান্ত মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিজের জন্য গ্রহন করার সুপারিশ করা হয়, এখানে রুপযৌবনের কোনও কথা বলে সুপারিশ করা হয় নি। অথচ মালাউন অভিজিৎ রায় লিখলঃ

‘‘আরেকজন সাহাবির মুখে নবীজি যখন সাফিয়ার রূপলাবণ্যের কথা শুনলেন, আল্লাহর রাসুল তাকে সামনে নিয়ে আসার জন্যে আদেশ দিলেন। নবীজী ভালভাবে তাকিয়ে দেখলেন এই অপূর্ব সুন্দর দেহবল্লরী তো তারই উপযুক্ত। নবী সেই সাহাবীকে বললেন, ‘একে আমার জন্যে রেখে তুমি অন্য কাউকে নিয়ে যাও’। (নাউজুবিল্লাহ)



1898954_1465513910334804_509180246_n


দেখেন আপনারা হাদীসে কোথাও বলা নাই যে সাফিয়ার রুপ লাবণ্য দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকৃষ্ট হয়েছিলেন কিন্তু এই মালাউন অভিজিৎ রায় বুখারী শরীফের হাদীস বিকৃতি করে বলল যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকি সাফিয়ার রুপ দেখে পাগল হয়ে গেছিল। নাউযুবিল্লাহ। শুধু তাই নয় এই অভিজিৎ রায় তার নোটে ও ব্লগে এই কথাও বলেছে যে সাফিয়া নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রক্ষিতা ছিল। নাউযুবিল্লাহ।"



ফারাবি শফিউর রহমান এর আগেও ব্লগার রাজীব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। যদিও পরে এ ব্যাপারে তার সম্পৃক্ততার কোন প্রমান মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনার জন্যও খুব শীঘ্রই গ্রেফতার হবেন ফারাবি।

পুড়ছে মানুষ, জ্বলছে দেশ কী চমৎকার বাংলাদেশ !



একাত্তর ইস্যুতে মানবতা মুছে ফেলো টয়লেট টিস্যুতে’ স্লোগানটা বহু বছর আগে ব্লগে প্রথম দেখেছিলাম চমকে উঠেছিলাম আজ এতো বছর পরও মনে পড়ে, প্রথমবার দেখে সেদিন কেমন থমকে গিয়েছিলাম মনে হয়েছিলো এর জের বহুদূর টানতে হবে বাংলাদেশকে একটা গোষ্ঠীর চিন্তার প্রকাশ যদি এমন হয়, এবং তা সমাজের শিক্ষিত অংশের মাঝে সমাদৃতও হয়, তবে তার পরিণতি কারো জন্য ভালো হওয়ার কথা না হয়ওনি।

বাঙালীর এ আনন্দ-উল্লাস দেখে মনে পড়ে বইয়ে পড়া গহীন অরণ্যের আদিম নরখাদক জংলী গোষ্ঠীর উল্লাসের কথা আগুনে পোড়ানো হচ্ছে কিছু নারী আর শিশুকে। তাদের চামড়া পুড়িয়ে আগুন আরো ভেতরে যাচ্ছে, জ্বালাচ্ছে চুল পুড়ছে, হাত পুড়ছে, পা পুড়ছে শ্মশানের পাশে যেমন গন্ধ পাওয়া যায়, সেই মাংসপোড়া গন্ধ ভাসে বাতাসে আর তাদের চারপাশ ঘিরে ফেসবুকের জঙ্গলে উল্লাসে হৈ হৈ করে নাচছে, লাফাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আপ্লুত বাঙালীর দল আদিম সেই উল্লাস, খাদ্য জুটছে তাদের প্রতিহিংসাপরায়ণ অন্ধ মনের যেখানে পুড়ছে মানুষ, পুড়ছে দেশ, পুড়ছে মানবতা, পুড়ছে স্বাধীনতা।

একাত্তরের চেয়ে মানবতা অনেক বড় একটা বিষয় আর কয়েক জেনারেশন পর একাত্তর স্রেফ অতীতের একটা ঘটনা হয়ে যাবে কয়েকশ বছর পরে থাকবে বই এর পাতায় কিন্তু পৃথিবীর শেষ মানুষটা বেঁচে থাকা পর্যন্ত মানবতা একটা দরকারী বিষয় পাকিস্তানী সেনাবাহিনী একাত্তরে মানবতার তোয়াক্কা করেনি বলেই তারা এতো ঘৃণিত।

কয়েক বছর ধরে যে অবিচার আর অমানবিকতা চলে আসছে, তাতে মানুষের আর বিচার হয় না পুলিশ যাকে ইচ্ছা তাকে ধরে নির্বিকার খুন করে ফেলতে পারে, ছাদ থেকে ফেলে দিতে পারে, গুম করতে পারে, কোন বিচার নাই যা ইচ্ছা খুন ধর্ষন চালিয়ে যেতে পারে, কোন সমস্যা নাই বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে কুপিয়ে মারা সবার সামনে উঁচু গলায় তার পরিবারকে জানিয়ে দেয়, সমস্যা হবে না কোন গ্রেফতার টেফতার এগুলো ফরমালিটিজ নারী শিশুদেরকে পুড়িয়ে মারার পর সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাসিমুখে বলতে পারে, এটা নিছক দুর্ঘটনা।

সমসাময়িক বাংলাদেশে মানবতার এ দুর্দশা শুরু হয়েছিলো আঠাশে অক্টোবরে পল্টনে লগি-বৈঠার সেই ঘটনায় যেদিন হাসিনার নির্দেশের ফলে মানুষকে আর মানুষের সম্মান দেয়া হয়নি পশুর মতো পিটিয়ে মারা হয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে এবং তার কোন বিচার হয়নি সে ঘটনার মানসিক প্রভাব ছিলো সুদূর প্রসারী।

একবার ভাবুনতো আমাদের লালসার আগুনে পুড়ছে শত মানুষ পুড়ছে বিশ্বাস  পুড়ছে মানবতা..প্রাণভয়ে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে নারী-পুরুষ-শিশু চোখে ভাসছেনা একাত্তরের নির্মমতার সেই ছবি ?…পাকিস্তানি হায়েনাদের বর্বরতার কথা ?

৫২ থেকে ৭১ পর্যন্ত লক্ষকোটি মানুষের সমষ্টিগত প্রচেষ্টার ফসল এই স্বাধীনতা আজ কেনো বারবার কলংকিত হচ্ছে ? আমার পাশের মানুষটি যদি আমার কাছে নিরাপদ থাকতে না পারে- তাহলে কেমন স্বাধীনতা এটি?  

আমি বিজয় দেখিনি, জন্মেই শুনেছি স্বাধীন দেশ স্বাধীন দেশ অনুভূতিটা সব সময় শিহরণ জাগাত আমরা স্বাধীন তাইতো সব সময় ভাবতাম, আমাদের কেউ কিছু বলার সাহস রাখে না। অথচ যখন বড় হই, নিজের কাছে স্বাধীনতার পুরো অর্থ পাল্টে যেতে থাকে নিসত্দব্ধ হৃদয়ের চারপাশে ভীড় জমায় স্পষ্ট কত গুলো প্রশ্ন আমরা কি আজও স্বাধীন হতে পেরেছি।

নব্য জালে জাতিকে বেধে করি দুর্নীতির চাষ গড়বো সোনার বাংলা আমরা দেখাই স্বপ্ন এক রাশ।



একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে গোটা জাতি আজ নিমজ্জিত কেন?



সোহেল রানা
বগুড়া সিটি ২৪
..…..…..…..…..…
একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে গোটা জাতি আজ নিমজ্জিত কেন? এই দেশে জন্মগ্রহন করে কি বিরাট পাপ করে ফেললাম? একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দিলেইতো হয় জনগনই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করুক,কে দেশ চালাবে কারন বিএনপি হোক বা আওয়ামী লীগ,কোনো দলীয় সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন এই দেশে সম্ভব নয়,এটা পাগলে ও বুঝে পুড়ছে মানবতা পুড়ছে বাংলাদেশ অবরুদ্ধ আজ আমরা পুরো জাতি ।

প্রতিদিন র‍্যাব পুলিশের আইনি প্রতিশোধের শিকার হয়ে যারা ক্রসফায়ার এবং বন্দুকযুদ্ধে মারা যাচ্ছে তাদের সম্বন্ধে বলা হচ্ছে যে, পুলিশের উপর হামলার সময় অথবা পুলিশের সাথে গোলাগুলির সময় তারা মারা গেছে অথচ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে ডিবি পরিচয়ে আগেই তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাহলে কি প্রতিটি শোকাহত পরিবার মিথ্যা বলছে আর পুলিশ সত্য বলছে?

চরম ভুল সিদ্ধান্ত! আবারো প্রমাণিত, আমাদের নেতারা জনগনের জন্য নন, কেবল কি করে ক্ষমতায় থাকা যায় বা ক্ষমতায় যাওয়া যায়, এই তাদের একমাত্র লক্ষ্য মানুষ পুড়িয়ে মারা যেমন কোন রাজনীতি নয়, জন-সমর্থনের তোয়াক্কা না করে গদী-আঁকড়ে থাকাও তেমনি রাজনীতি নয়। পৃথিবীতে সবকিছুরই একটা কার্য-কারণ থাকে, 
বিনা কারণে কোন কিছুই ঘটে না।

আমি বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে মারাকে চরম নিন্দা জানাই, এবং কোনমতেই তা সমর্থন করি না; কিন্তু মনের গভীরে জানি আওয়ামী লীগ এই সব ঘটনার পেছনের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। মনে রাখতে হবে বিএনপি এখনও জনগনের একটা বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং নিরপেক্ষ ভোট হলে ফলাফল বিএনপির পক্ষে যাবে বলেই বেশীরভাগ মানুষ মনে করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপিকে অস্বীকার করা অবাস্তব। কেবল সংলাপ শুরু করলেই যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয়, তাহলে কেন এই গোঁ-ধরে বসে থাকা। আসলে আওয়ামী লীগ সত্যিকার জন-দরদী হলে এতদিনে বিএনপির সাথে একটা সমঝোতায় পৌঁছাতো।


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং সমৃদ্ধ জলাভূমির নাম চলনবিল।


স্রোতস্বিনী, প্রমত্তা, খরস্রোতা, জলরাশি— এ রকম বেশ কিছু শব্দ আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। কথায় বা লেখনীতে শব্দের ব্যবহার না থাকলে জীবনে সেই শব্দগুলোর কোনো আক্ষরিক প্রভাব থাকে না। শব্দগুলো অভিধান থেকে হয়তো মুছে যাবে না, তবে প্রায়োগিক ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এবং সমৃদ্ধ জলাভূমি বা জলাধার চলনবিল। ছোট-বড় অনেকগুলো নদী, অসংখ্য খাল এবং আরও বেশ কিছু বিল পরস্পর সংযুক্ত হয়ে একটি বৃহত্ জলরাশির নাম চলনবিল।

বর্ষা এলে চলনবিল হয়ে ওঠে সুবিশাল খরস্রোতা। যার কূলের দেখা মেলা ভার, শুধু পানি আর পানি, সাগরের মতো বিশাল বিশাল ঢেউ মানুষের জীবন প্রণালি এখানে জল আর নৌকা দিয়ে বাঁধা। একসময় ব্যাপক মত্স্য সম্পদ ছিল চলনবিলে, ছিল বিশাল জেলেগোষ্ঠী। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর চলনবিলে ছিল জলের জৌলুস নিয়মিত পানি প্রবাহের ফলে বিলের পানি স্থির না হয়ে ছিল বহমান তাই এ বিলের নাম হয় চলনবিল।

বাংলাদেশের তিনটি জেলা রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জুড়ে বিস্তৃৃত রয়েছে চলনবিল। বাংলাপিডিয়া থেকে জানা যায়, চলনবিলের অবস্থান নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমানী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে চলনবিল। 

সময়ভেদে এ বিলের আয়তন বাড়ে ও কমে বর্ষায় চলনবিল আয়তনে প্রায় ৩৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং শুষ্ক মৌসুমে কমে দাঁড়ায় ৫২-৭৮ বর্গকিলোমিটারে সৃষ্টি হওয়ার সময় এর আয়তন ছিল প্রায় এক হাজার ৮৮ বর্গকিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবাহপথ পরিবর্তনের সময় চলনবিলের সৃষ্টি হয় বলে জানা যায় আজকের যমুনা নদীই ব্রহ্মপুত্র নদের পরিবর্তিত রূপ নদী চলবে তার আপন গতিতেই, প্রকৃতির নিয়মেই পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হবে তার রূপ।

নদী একদিকে ভাঙবে, অন্যদিকে গড়বে— কথাগুলো সবারই জানা তারপরও বলছি, কারণ, সবকিছু জানা-বোঝার পরও আমরা আমাদেরই স্বার্থে নদী, খাল-বিল শাসনের নামে প্রকৃতির নিয়মের বাইরে গিয়ে তার স্বাভাবিক গতিপথ রোধ করে নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নদীর ওপর রাস্তা-ঘাট, বাঁধ, ব্যারাজ, সেতু, কালভার্ট, ক্রস ড্যাম, স্লুইস গেটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছি এসব কর্মকাণ্ড চলনবিলের সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার পরিবেশ ও জনজীবনেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।

একসময় এর পানি ধারণক্ষমতা, প্রাকৃতিক সম্পদের বৈচিত্র্য, খাল-বিল, নদী-নালার আন্তঃসম্পর্ক প্রকৃতির নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছিল বিলের পানি ছিল বহমান; সংযুক্ত নদ-নদী ও অন্যান্য খাল-বিলগুলোতেও ছিল পানির প্রবাহ কালক্রমে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে, প্রভাবশালীদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থতায় এখানে বাস্তবায়িত হয়েছে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ শোনা যায়, বিল অঞ্চলে ২১টি নদী ও ৯৩টি ছোট-বড় বিল ছিল ১৯৭৪-৭৫ সাল পর্যন্ত চলনবিল থেকে আশ-পাশের সব অঞ্চলে নৌকায় যাতায়াত সহজ ছিল।

১৯৭৬-এর পর থেকে এখানকার প্রাকৃতিক অবস্থাকে ধ্বংস করার কাজ শুরু হয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে। ফলে নৌপথে যাতায়াতের সুবিধা কমতে থাকে এবং ১৯৯০-এর দিকে চলনবিলকে প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস ও বিপর্যস্ত করে ফেলা হয় উল্লেখ্য, চলনবিল ও সংলগ্ন সব খাল-বিলের পানি সরবরাহের প্রধান উত্স বড়াল নদ।

পদ্মা নদী থেকে উত্পন্ন হয়ে চলনবিল দিয়ে প্রবাহিত বড়াল গিয়ে মিশেছে আরেকটি অন্যতম প্রধান নদী যমুনায়। ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদ বড়ালের উত্সমুখ রাজশাহীর চারঘাটে ১৯৮৫ সালে নির্মিত স্লুইস গেটের মাধ্যমে এটি মৃত্যুমুখে পতিত হয়। পরে এর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় আটঘরিয়া নামক স্থানে বড়ালের ওপর আরেকটি পাঁচ দরজা বিশিষ্ট রেগুলেটর স্থাপন করায় এরপর শুরু হলো মৃত নদীর বুক চিরে রাস্তা-ঘাট, বাড়ি-ঘর এমনকি সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ। বন্ধ হলো বড়ালের পানিপ্রবাহ, শুকিয়ে গেল এর শাখা নদ মুসা খাঁ ও নন্দকূজা। অন্যদিকে, মুসা খাঁ থেকে পানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় মরে গেল হোজা নদী; নারদের প্রাণও ওষ্ঠাগত চলনবিলের ওপরেও এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিল হারিয়ে গেল জলাভূমি, মত্স্য ও জলজ সম্পদের ভাণ্ডার। জনজীবন হলো বিপর্যস্ত।

বিশ্বের বড় বড় দেশ যখন বাঁধের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বাঁধ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তে উপনীত, তখন আমাদেরও বসে থাকলে চলবে না। বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও প্রাণবৈচিত্র্য এই নদীগুলোর প্রাণপ্রবাহ ফিরিয়ে দিতে আমাদেরও উদ্যোগী হতে হবে সঠিক ও পরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে বন্ধ করতে হবে নদী ধ্বংসযজ্ঞ বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য অথবা বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য নদীর গতিপথ আটকে বাঁধ নির্মাণের এই সংস্কৃতির বলয় থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য স্বাদু পানির আধার ও ভূগর্ভস্থ পানির সঞ্চয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদেরই। তাই কৃষি অর্থনীতির ভীত আরও পোক্ত করতে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।

লিপিকার : সানজিদা খান রিপা 


বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন নগরী মহাস্থানগড়



বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে গেলে এই শহরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের শহর মহাস্থানগড়। সেসময় এর নাম ছিল পুর্ণ্ড্রনগর।

বৌদ্ধ শিক্ষার জন্য প্রসিদ্ধ হওয়ায় চীন ও তিব্বত থেকে ভিক্ষুরা তখন মহাস্থানগড়ে আসতেন লেখাপড়া করতে। এরপর তারা বেরিয়ে পড়তেন দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। সেখানে গিয়ে তারা বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষার বিস্তার ঘটাতেন।

মহাস্থানগড়ের ইতিহাস সম্পর্কে জানা গেছে, এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত বাংলাদেশের সবচাইতে প্রাচীন রাজধানী শহর হচ্ছে মহাস্থানগড়। প্রাক মৌর্য যুগ, মানে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে থেকে এখানে মানব বসতির চিহ্ন পাওয়া যায়।
এছাড়া মহাস্থানগড়ে পাওয়া বিভিন্ন প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন হতে জানা যায় যে, কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত এবং পাল শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সামন্ত রাজাদের রাজধানী ছিল। এই দুর্গনগরীর বাইরে উত্তর, পশ্চিম, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের সাত-আট কিলোমিটারের মধ্যে এখনও বিভিন্ন ধরণের প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে যা উপ-শহরের সাক্ষ্য বহন করে।

জানা গেছে, মহাস্থানগড়ে প্রথম খনন কাজ শুরু করেন আলেকজান্ডার কানিংহাম নামের একজন প্রতœতত্ত্ববিদ। তিনি ভারতের প্রতœতত্ত্ব জরিপ অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত খননকাজ চলছে। ইতিমধ্যে দুর্গনগরীর দুর্গ ছাড়াও কিছু কিছু ভবনের অস্তিত্ব আবিষ্কার করা হয়েছে।

শুরুটা কানিংহাম করলেও মহাস্থানগড়ে সবচেয়ে ভালভাবে খননকাজ শুরু হয় ১৯৯১ সালে। সেসময় ফ্রান্সের কয়েকজন প্রতœতাত্ত্বিক বাংলাদেশের প্রতœতাত্ত্বিকদের সঙ্গে মিলে যৌথভাবে কাজ শুরু করে।

তাদের গবেষণায় অনেক প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। যেমন ভাস্কর্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন যুগের মুদ্রা, মাটির তৈজসপত্র, পুঁতি ইত্যাদি। এছাড়া পাওয়া গেছে প্রাক মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও মুসলিম যুগের কাঁচাপাকা ঘরবাড়ি, রাস্তা, নর্দমা, কূপ, মন্দির, মসজিদ, তোরণ, বুরুজ ইত্যাদি।

এসব ছাড়াও সেসময়কার নগরজীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন দ্রব্যাদি যেমন রৌপ্য ও তাম্র মুদ্রা, কালো মসৃণ মৃৎপাত্র, পোড়ামাটির ফলক, মূর্তিসহ মাটি ও ধাতব দ্রব্যাদি ইত্যাদি পাওয়া গেছে। এসবের অনেক কিছুই দেখতে পাওয়া যাবে মহাস্থানগড় জাদুঘরে গেলে।

সামাজিক উদ্বেগ থেকে রক্ষার ১১ উপায়



মানুষ সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেকেই ভীতি, উদ্বেগ আর লজ্জায় ভোগেন থাকেন। এতে তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ে এবং অন্যদের সঙ্গে ব্যবধান তৈরি হয়। কিন্তু অন্য মানুষের থেকে নিজেকে আলাদা করে রাখলে আপনি একদিন না একদিন নিজের অস্থিতকে স্বাভাবিক ভাবে নাও পেতে পারেন।তাই আপনি যদি এই সমস্যা সম্মুখিন হয়ে থাকেন ।তাহলে পড়ে নিতে পারেন নিচের এই ১১টি উপায়-
 ১. আপনার ভয়গুলোর মুখোমুখি হন
আপনার ভয়গুলোর মুখোমুখি যদি আপনি না হন, তাহলে সেগুলো আপনার পিছু ছাড়বে না। সামাজিক বিভিন্ন উপলক্ষে পার্টি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াটা অনেকের কাছে ভীতিকর। কিন্তু আপনি যতোই এগুলোর মুখোমুখি হবেন, ততোই এগুলোতে অভ্যস্ত হবেন। এটা আপনার কোনো চাকরিতে প্রথম দিনের মতো। সেখানে কয়েক সপ্তাহ থাকার পর আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। এজন্য ছোট পদক্ষেপে শুরু করতে পারেন। প্রথমেই ছোট ভয়গুলোকে কাটাতে হবে। যেমন সদাই কেনার জন্য বাইরে যাওয়া বা চায়ের দোকানে কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা শুরু করা।
২. নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন
নিজের মাথায় সামাজিক নেতিবাচক বিষয়গুলো লালন করে রাখা সত্যিই খারাপ। আর এর ফলে যদি আরেকটি সামাজিক উপলক্ষ আপনি ত্যাগ করেন তা হবে নিজেকে প্রহার করার মতোই। নিজের প্রতি এতোটা নির্দয় হবেন না। সামাজিক কোনো উপলক্ষ বাদ দিলে নিজেকে বলুন, নিজের জন্য আপনি এ সময়টা ব্যয় করছেন। তবে আগামীতে অবশ্যই এধরনের বিষয় বাদ দিবেন না।
৩. সমস্যাকে সমস্যা মনে না করুন
এটা বড় কোনো সমস্যাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে ফেলার মতোই ব্যাপার। ধরুন একটি বড় যাত্রাপথে যাচ্ছেন আপনি। এজন্য সম্পূর্ণ যাত্রার চিন্তা না করে আগামী স্টপেজ বিষয়ে প্রথমে চিন্তা করুন। এভাবে অনেক কিছুকেই ভাগ করে ফেলা সম্ভব। ধরুন একটি পার্টিতে আপনি যাচ্ছেন। এতে সম্পূর্ণ পার্টির বিষয়টি চিন্তা না করে পানীয়ের বিষয়টি চিন্তা করুন। এরপর দাঁড়ানো বা বসার জন্য কোনো স্থান ঠিক করার চিন্তা করুন। এরপর কথা বলার জন্য কাউকে খুঁজে বের করুন। এভাবে ভাগ ভাগ করে কাজ করার ফলে বিষয়টা অনেকখানি সহজ হয়ে যাবে।
৪. ভয়ের বিষয়ে নিকটতম মানুষের সাথে আলোচনা করুন
আপনার মতো সামাজিক বিষয়ে ভীত মানুষদের সঙ্গে আলোচনা করা নিঃসন্দেহে ভালো হতে পারে। একই ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আপনার আশপাশে খুঁজলেই এমন মানুষ পাবেন।
৫. মন নিয়ন্ত্রনের জন্য ধ্যান করুন
যে কোনোধরনের ভয় দূর করার জন্য ধ্যান খুবই কায্যকর। এক মিনিটের ধ্যানই অনেক ক্ষেত্রে কার‌্যকর হয়ে উঠে। এজন্য চোখ বন্ধ করে বা কোনো নির্দিষ্ট দিকে তাকিয়ে সবকিছু ভুলে যান। ৬০ সেকেন্ডের এ ধ্যানে আপনার নিঃশ্বাসের দিকে খেয়াল রাখুন আর অন্য সবকিছু ভুলে যান। এভাবে নেতিবাচক চিন্তা ভুলে যান আর দূর করুন সামাজিক ভীতি।
৬. নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন
নতুন কোনো বিষয় শুরু করলে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু নতুন কোনো শখ পালন সামাজিক উদ্বেগ কমিয়ে দিতে পারে। কোনো বন্ধুকে নিয়ে বা একাই কোনো ভ্রমণে যেতে পারেন। এছাড়া হস্তশিল্পের মতো উদ্ভাবনী কাজ শুরুও নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ তৈরি করবে। ফলে তাদের সঙ্গে একরকম অনেককিছু নিয়ে আলাপ করা যাবে।
৭. লিপিবদ্ধ করুন
আপনার উদ্বেগের বিষয় ডায়েরিতে লিখে ফেলুন। এটি উদ্বেগের কারণের দিকে দৃষ্টিপাত করতে সাহায্য করবে। এতে অনেক সময় নিজের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও বোঝা যাবে। লিপিবদ্ধ করে রাখার ফলে যখন আপনি কিছুটা উন্নতি লাভ করবেন, তখন নিজের অতীত অবস্থার সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করতে পারবেন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস আগের তুলনায় অনেক বাড়বে।
৮. নিজেকে চাপ দিন
সামাজিক উদ্বেগ কমানোর জন্য নিজে উদ্যোগি হতে হবে। ছোট ছোট পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেকে এজন্য চাপও দিতে হবে। যদি কোনো পদক্ষেপ একা নিতে না পারেন তাহলে কারো সাহায্য নিতে পারেন। প্রথমে আশপাশে ঘুরে বেড়ানোর মতো সহজ পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে হবে। এরপর ক্রমে কঠিন সামাজিক কাজও করতে পারবেন আপনি।
৯. উদ্বেগ আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে না
অনুভব করুন আপনার উদ্বেগ হয়, কিন্তু উদ্বেগ আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে না। এভাবে নিজেকে উদ্বেগ মুক্ত করার জন্য চেষ্টা করুন। আপনার বন্ধু-বান্ধবদের উদ্বেগের কথা খুলে বলুন। এতে তারা আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারে।
১০. নিজের আত্ম-সম্মান বজায় রাখুন
নিজের আত্ম-সম্মান বজায় রাখার নিয়মিত চেস্টা করুন। স্মার্টফোনের অ্যাপে এবং ইউটিউবে  আত্ম-সম্মান বাড়ার অনেক ভিডিও পাওয়া যায়। সেগুলো দেখে রাতে ঘুমানোর আগে তা অনুশীলন করতে পারেন। এগুলো আপনাকে আত্ম-সম্মানী ও আত্মবিশ্বাসী করবে।
১১.কখনো নিজেকে একা ভাবেন না
অনেকেই সামাজিক উদ্বেগে ভোগেন। অনেকের ক্ষেত্রে এর মাত্রা খুবই বেশি থাকে।আবার অনেকের কম থাকে। আপনার উদ্বেগ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণে আনার এখনই উপযুক্ত সময়। আজকের একটি ছোট পদক্ষেপ আগামীর জন্য বড় পদক্ষেপ হতে পারে, যা আপনাকে সুখী ও স্বাচ্ছন্দ্য করবে।